মিয়ানমারের বক্তব্যের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী': নির্বাচনের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পেছানোর সম্পর্ক নেই'


বাংলাদেশে আছে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

বাংলাদেশে আছে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পিছিয়ে দেয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

উল্লেখ্য মিয়ানমার সরকার এর আগে দাবি করেছিল যে, বাংলাদেশ সরকার ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পিছিয়ে দিতে চাইছে।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসকে বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলছেন, নির্বাচনের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোন সম্পর্ক নেই।

তিনি বলছেন, “মোটেই না, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে এই ১৫ নভেম্বর তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছিলো। এটার সাথে নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের জন্য তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি আমরা।”

বাংলাদেশ থেকে প্রথম দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৫ নভেম্বর, গত বৃহস্পতিবার। প্রথম দফায় দুই হাজারের কিছু বেশি রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিলো।

মিয়ানমারের পক্ষ থেকেই তাদের যাচাই করে এই তালিকা দেয়া হয়েছে। ১৫ নভেম্বর প্রথম দিন দেড়শ জনের মতো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কিন্তু সেটি শুরু করাই সম্ভব হয়নি।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসিকে জানিয়েছে, “আমাদের দুই রাষ্ট্রেরই সম্মতিতে ১৫ নভেম্বর ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সেটা হয়নি কারণ যারা যাবেন তারা রাজি হয়নি। এখানে আমরা যেটা বুঝেছি যে এখানে আস্থার সংকট আছে তাদের। আমরা মিয়ানমারকে অনুরোধ করেছি এবং আবারো পুনরায় করবো এই আস্থার যায়গাটি তৈরি করতে। এবং তারা যত তাড়াতাড়ি এই কাজটি করতে পারবেন, রিপাট্রিয়েশন আমরা আবারো পুনরায় চেষ্টা করবো। পুরোপুরি এটা এখন নির্ভর করছে মিয়ানমারের উপর।”

তিনি বলছেন, আস্থার সংকটই এখানে বাধার সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে মিয়ানমারের তংপিয়ং লেটওয়া এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্পে অভিবাসন কর্মকর্তাসহ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং চিকিৎসকরা প্রস্তুত ছিলেন বলে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো।

প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশেরও পুরোপুরি প্রস্তুতি ছিল বলে জানান মিঃ আলম। তবে সেদিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তাদের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

এখন নতুন করে কবে প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে সেনিয়ে পরিষ্কার করে ধারনা পাওয়া যাচ্ছে না।



Source link

যে পরীক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া নিস্তব্ধ হয়ে যায়


এটি এমন সময় যখন এমনকি সেখানে বিমান আকাশে উড়া বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় পরীক্ষার এই দিনে শিক্ষার্থীদের কেউ কোনো ভাবেই বিরক্ত করতে চায়না। পুরো দেশ এই দিনে তাদের পাশে দাঁড়ায়।



Source link

বিবিসি, প্রথম আলোসহ নামকরা প্রতিষ্ঠানের নকল ওয়েবসাইটে ভুয়া খবর : বন্ধ করার দায়িত্ব কার



প্রথম আলোর নকল সাইট

Image caption

প্রথম আলোর নকল সাইট

ইন্টারনেট দুনিয়ায় ফেক নিউজ বা ভুয়া খবরের আগ্রাসনের সঙ্গে সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে নামী সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটের পুরো নকল ওয়েবসাইট তৈরির মতো ঘটনা।

এসব ফেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠকদের বিভ্রান্ত করে ফেক নিউজ ছড়ানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে বিবিসি বাংলা বা প্রথম আলোর মতো প্রতিষ্ঠানের এরকম ফেক ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে এমন সময়, যার মাত্র কিছুদিনের মধ্যে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অনেক দেশে নির্বাচনে ফেক নিউজ ছড়ানোর ঘটনা দেখা গেছে, যার মাধ্যমে ভোটার বা পাঠকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

পুরোপুরি একই চেহারার, একই রঙে এসব ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। তবে ভালো করে তাকালে দেখা যাবে, ডোমেইন যেমন আলাদা, খবরের ধরণের সঙ্গেও পার্থক্য রয়েছে।

Image caption

ফেক নিউজ নিয়ে ঢাকায় বিবিসি বাংলার সেমিনার

যেমন বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইট bbcbangla.com বা https://www.bbc.com/bengali হলেও, যে ভুয়া ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছিল তার ঠিকানায় রয়েছে bbc-bangla.com। প্রথম আলোর ওয়েবসাইট prothomalo.com হলেও, ভুয়া ওয়েবসাইটের ঠিকানায় একটি অতিরিক্ত a যোগ করা হয়েছে, যেমন prothomaalo.com।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. কাজী মুহাইমিন-আস-সাদিক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”সাধারণ পাঠকদের পক্ষে ভালোভাবে এই ডোমেইনটি লক্ষ্য না করলে, বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তাই যখনই কোন সন্দেহজনক সংবাদ চোখে পড়বে, তখন উচিত ডোমেইনটির দিকে তাকানো। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে দেখা কোন খবর শেয়ার করার আগে এর উৎস প্রতিষ্ঠানটি ভালো করে দেখা নেয়া উচিত, কারণ এভাবে শেয়ারের মাধ্যমে আপনার কাছের লোকজনকেও বিভ্রান্ত করা হবে।”

এই বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

যেমন: একই নামে কখনো দুইটি ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব না। তাই সত্যিকারের ওয়েবসাইটের সঙ্গে নকল ওয়েবসাইটের কিছুটা পার্থক্য থাকবেই।

তবে চেহারা এক হলেও, আসল ওয়েবসাইটগুলোর নামের সাধারণত secure https:// ইত্যাদি লেখা থাকলেও, এরকম ফেক বা দুর্বল ওয়েবসাইটগুলোতে তা থাকে না।

বিভিন্ন মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এসব ভুয়া খবর দ্রুত সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সামাজিক মাধ্যমে কোন খবর দেখে সন্দেহ হলে, ওই প্রতিষ্ঠানের ধরণের সঙ্গে সেটি না মিললে, ডোমেইনটি পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন ড. মুহাইমিন-আস-সাকিব।

ডোমেইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুলোয় খোঁজ করে সদ্য তৈরি হওয়া এসব ভুয়া ওয়েবসাইটের মালিক প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন করে রাখা দেখা গেছে। তবে এগুলো তৈরি করা হয়েছে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে।

Image caption

.

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশে যেহেতু আর কিছুদিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেই নির্বাচনকে ঘিরে গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়াতেই এরকম ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। এসব সাইটে প্রকাশিত খবর ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়ে সহজেই পাঠকদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শবনম আযীম বলছেন, ”একটি সংবাদ মাধ্যম নির্ভর করে তার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। আমরা হয়তো তার লোগো বা নাম দিয়ে এরকম প্রতিষ্ঠান চিনে থাকি। তখন হয়তো এরকম প্রতিষ্ঠান অসৎ লোকদের লক্ষ্যে পরিণত হয়। সাধারণ পাঠকরা হয়তো ভালোভাবে দেখেন না। এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে ব্যবহার করেই মিথ্যা খবর ছড়ানোই এসব ফেক ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য। তাদের আসল লক্ষ্য গুজব বা মিথ্যাকে সত্যি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে দেয়া।”

”এটা ভয়ংকর হুমকি। তারা যখন বিশ্বাসযোগ্য কোন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে, তখন তাদের একটি মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এটা সংবাদ মাধ্যম এবং পাঠক, উভয়ের জন্যই ভয়ংকর হুমকি।”

ডোমেইন রেজিস্ট্রি কর্তৃপক্ষের কাছে বিবিসির অভিযোগের পর ভুয়া ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি তারাও নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর সারা বিশ্বের রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”আমরা তো খুবই উদ্বিগ্ন, কারণ এটি প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার হয়েছে, এখনো এরকম চারটি ওয়েবসাইট ক্লোন করে মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। আমরা কিছু আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।”

ছবির কপিরাইট
Shyadul Islam

Image caption

.

বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ, বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহিরুল হক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “আমরা নিজেরা খোঁজখবর রাখি, তবে আমরা সবকিছু বন্ধ করতে পারিনা। ফেসবুকের কিছু হলে আমরা সেটি বন্ধ করার জন্য ফেসবুককে অনুরোধ করি। আর ভুয়া ওয়েবসাইট বন্ধের বিষয়টি বন্ধ করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বলতে হবে। অথবা আমাদের জানানো হলে, আমরা তাদের কনসার্ন নিয়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। গুজব বন্ধ করার স্বার্থে সরকার নির্দেশিত হয়ে এই কাজগুলো আমরা মাঝে মাঝে করি।”

তিনি বলছেন, ” আমরা নজরদারি করলেও, সরাসরি নিজেরা বন্ধ করতে পারিনা। এই রকম তথ্য পেলে আমরা সরকারকে জিজ্ঞেস করি বন্ধ করবো কিনা। তাদের অনুমতি পেলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।”

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কোন ওয়েবসাইট ব্লক করে দিতে পারলেও সরাসরি বন্ধ করতে পারে না। এজন্য আন্তর্জাতিক ডোমেইন রেজিস্ট্রি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হবে ভুক্তভোগীদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া সংবাদ বা ফেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হবেন এর পাঠক নিজেরা। সুতরাং যেকোনো সংবাদ দেখে বিশ্বাস করার আগে বা পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করার আগে সেটির উৎস ভালো করে যাচাই করে নেয়া উচিত।



Source link

নির্বাচনের আগে এরশাদ কেন সামরিক হাসপাতালে


হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ: অসুস্থতা কতটা গুরুতর?

সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার অসুস্থতা কতটা গুরুতর। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এইচ এম এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেবার নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পরই তাঁকে জোর করে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন :

আপনাদের দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ কেন সামরিক হাসপাতালে?

উনি রুটিন চেক-আপের জন্য হাসপাতালে গেছেন। উনি নিয়মিতই যান। হাসপাতাল থেকে উনি কালও চলে আসতে পারেন। দু’এক দিন দেরিও হতে পারে। হাসপাতালের সব বড় বড় কর্মকর্তারা সেখানে উনার দেখাশোনা করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, মেজর জেনারেল পদমর্যাদার লোকজন।

উনার কি কোন বিশেষ শারীরিক অসুবিধা আছে?

না, স্বাভাবিক চেক আপ। ব্লাড সুগার, হার্ট, প্রেশার এসব। ব্লাড সেলগুলোও দেখা হচ্ছে।

রেগুলার চেক-আপই যদি হবে, উনাকে ভর্তি হতে হলো কেন?

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরি এবং এইচ এম এরশাদ। এবারের নির্বাচনেও কি তারা এক নৌকায়?

না, উনি প্রায়শই এরকম গিয়ে এক-আধ দিন থাকেন। উনি তো সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ক্যান্টনমেন্ট তারও একটা আস্থার জায়গা। বাসার চেয়ে কম না। উনি সেখানে এক আধ দিন থাইকা আবার চলে আসেন।

কবে নাগাদ উনি হাসপাতাল থেকে চলে আসবেন বলে আশা করছেন?

দু’এক দিনের মধ্যেই আসবেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তো উনাকে এভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল?

(হেসে) দিন তো একভাবে যায় না। সবসময় কি একই রকম যায়? সব সময় তো একই রকম যায় না।

আরও পড়ুন:

দিল্লিতে এরশাদ: ভারতের কাছে তার গুরুত্ব কী

এরশাদের পতন: পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল

বাংলাদেশে নির্বাচন: ভারত কি তার কৌশল পাল্টেছে?

অনেকে এটাকে গায়েবি অসুস্থতা বলছেন, এটি তা নয় আসলে?

না, অসুস্থতা না। উনি একটু গেছেন, দু্’এক দিন থাকার পর আবার আসবেন। আপনি যদি দু’একদিন পর আমার সঙ্গে কথা বলেন, এটা লাউড এন্ড ক্লিয়ার হবে।

আপনি কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন, দলের নেতারা কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন?

আমি নিজে তো দুপুরে আসলাম। আবার একটু আগে কথা বলেছি। কোন অসুবিধা নাই তো। যেটা আপনাদের ভাবনা, তা নয়। যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিভ্রান্তিকর। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। উনি জাতীয় নেতা। দলের চেয়ারম্যান। সাবেক রাষ্ট্রপতি। সাবেক সেনা প্রধান। এখন একটা নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য আসাটা অনাকাঙ্খিত। আমরা নির্বাচনে আছি। এবং উনি নির্বাচনে গুলশান থেকে, রংপুর থেকে নির্বাচন করবেন। আরও দুটি আসনেও কথা হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

নির্বাচনের আগে এবারও কি জাতীয় পার্টিকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া চলছে?

আপনারা যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করবেন, সেই আলোচনা কি শেষ করে ফেলেছেন? কে কত আসনে নির্বাচন করবেন?

আলোচনা খুব স্বাভাবিক এবং আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। সেরকম কোন প্রতিকুল অবস্থা নেই। আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেকদূর এগিয়ে আছি। এটা স্পষ্ট হবে। দু’চারদিনের মধ্যে জানাতে পারবো।

আপনাদের ওপর কি সরকারের দিক থেকে এমন কোন চাপ আছে, যে তাদের সঙ্গেই থাকতে হবে, বিএনপি বা আর কারও সঙ্গে যেতে পারবেন না?

হ্যাঁ চাপ আছে। সেটা হলো, ভালোবাসার চাপ। আস্থার চাপ। বিশ্বাসের চাপ। সেটা তো উপেক্ষা করা যায় না।

আপনি বলছেন যে আপনাদের দলের চেয়ারম্যান ভালো আছেন, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই হাসপাতালে গেছেন, তাকে জোর করে সেখানে নেয়া হয়নি?

না, না, নেয়া হয়নি। আপনি ভালো থাকবেন। (এরপর উনি ওবায়দুল কাদের সাহেব ফোন করেছেন বলে লাইন কেটে দেন)।

যা ঘটেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে

২০১৩ সালে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শুরুতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ৩রা ডিসেম্বর হঠাৎ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির এই সিদ্ধান্ত তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছিল। তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচন যাচ্ছে বলে ঘোষণা করে।

এরকম এক পটভূমিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদকে র‍্যাব আটক করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয় ঢাকার পত্রিকায়। তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তিনি আটক হননি, তাকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে দলের কোন কোন নেতা তখন দাবি করেছিলেন, এরশাদ অসুস্থ নন।

এরপর বেশ কিছুদিন এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। তবে ‘অসুস্থ’ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এরশাদকে গলফ খেলতে দেখা গেছে বলেও সেসময় পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।



Source link

'যুবরাজই খাসোগজিকে হত্যার নির্দেশ দেন ': সিআইএ


যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ বিশ্বাস করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই আসলে সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সিআইএ’র ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারা এই এর প্রমাণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এরকম একটি হত্যাকান্ড ঘটানোর অভিযান কেবলমাত্র যুবরাজের অনুমতি নিয়েই হতে পারে।

তবে সৌদি আরব এরকম দাবিকে মিথ্যা বলে বর্ণনা করেছে। তারা বলছে, যুবরাজ এই হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শনিবার বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাসোগজির হত্যাকারীদের বিচার হতে হবে।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও (বাঁয়ে) এবং সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আদেল আল জুবেইর (মাঝখানে) এর সঙ্গে যুবরাজের ভাই খালেদ বিন সালমান (ডানে)।

পাপুয়া নিউ গিনিতে এক সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় তিনি বলেন, “এই হত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের সবাইকে এর দায় নিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

অক্টোবরের ২ তারিখে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাসোগজিকে হত্যা করা হয়। তার মৃতদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুরস্ক বলছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই হত্যার নির্দেশ এসেছিল।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, খাসোগজিকে হত্যার নির্দেশ যে সরাসরি সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে এসেছে, সেটি সিআইএ ধারণা করছে অংশত একটি ফোন কলের ভিত্তিতে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাই প্রিন্স খালেদ বিন সালমান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত, তিনি নাকি জামাল খাসোগজিকে ফোন করেছিলেন।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

জামাল খাসোগজির মৃতদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

যুবরাজের নির্দেশেই নাকি তিনি খাসোগজিকে ফোন করে আশ্বাস দেন যে, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তিনি যেতে পারেন, তার কোন বিপদ হবে না।

তবে রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালেদ বিন সালমান দাবি করছেন, জামাল খাসোগজির সঙ্গে এক বছর ধরে তার কোন যোগাযোগ হয়নি।

জামাল খাসোগজির হত্যাকান্ড সম্পর্কে সিআইএ’র এই সর্বশেষ মূল্যায়ন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোন মন্তব্য করেনি।



Source link

গৃহকর্মীদের ওপর যৌন হয়রানির কতটা প্রতিকার হয়?


ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়েছে।

যেখানে বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তদন্ত করার কথাও জানিয়েছে।

কিন্তু মি-টু আন্দোলনটি মূলত হচ্ছে পরিচিত, বিখ্যাত বা নামীদামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতন বা যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোকে ঘিরে।

অথচ বাংলাদেশে তৃণমূল বা দরিদ্র যেসব মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে যেসব অভিযোগের কথা শোনা যায় নানা সময়ে, তাদের বিষয় কতটা মনোযোগ পাচ্ছে?

বিশেষ করে গৃহকর্মী হিসাবে যেসব মেয়েরা কাজ করে, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা কেমন?

Image caption

গৃহশ্রমিকরা যৌন নির্যাতনের প্রতিকার পায়না বলেই বলছেন অধিকার কর্মীরা

গৃহ শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের মহাসচিব নাজমা ইয়াসমিন বলছেন বাংলাদেশে দু ধরনের গৃহ শ্রমিক কাজ করে যেমন কেউ বাসায় চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করে আর কেউ খণ্ডকালীন কাজ করে।

“নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে যারা বাসায় কাজ করে। এদের বয়স ১৪ থেকে ১৮/২০ বছরের মধ্যে। শারীরিক নির্যাতন বেশি হয়”।

তিনি বলেন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কিছু আসে কিন্তু এটা প্রমাণ করা যায়না।

“কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেউ প্রকাশ করতে চায়না। আর কেউ প্রকাশ করলেও প্রমাণ করা কষ্ট হয়”।

কোন কাজকে যৌন হয়রানি বলা যাবে?

নারী অধিকার কর্মীরাও কি ‘মি-টু’ এড়িয়ে যাচ্ছেন?

বাংলাদেশে #মি-টু আন্দোলন কি শুরু হলো?

গৃহ শ্রমিকদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কেমন আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন গত তিনমাসে সংবাদপত্রে যত খবর এসেছে তাতে দেখা যায় প্রতি মাসে গড়ে ৬/৮ জন করে গৃহ শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এসব মামলা আলোর মুখ দেখেনা বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন শ্রমিক সংগঠনগুলোও এসব ঘটনায় খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনা কারণ ভিকটিম পরিবারগুলো সমঝোতায় চলে যায়।

“যারা ঘটনা ঘটান তারা টাকা দিয়েই ঘটনার মীমাংসা করতে চান। তারা যেহেতু প্রভাবশালী থাকেন আর গৃহ শ্রমিক দরিদ্র পরিবারের সেজন্য তারাও আর অগ্রসর হতে চায়না”।

নাজমা ইয়াসমিন বলেন শহর এলাকাতেই গৃহ শ্রমিক বেশি কাজ করে কিন্তু সব ঘটনার খবর পাওয়া যায়না। আবার যেসব ঘটনা পত্রিকায় আসে আবার সেগুলো নিয়েও অনেক কিছু করার থাকেনা।

“অর্থ ও ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ- দুভাবেই তারা (প্রভাবশালীরা) বিষয়গুলো ম্যানেজ করে ফেলে”।



Source link

ভুয়া খবরের খপ্পরে বিবিসি বাংলা


বিবিসি বাংলাকে নকল করে তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইট।

Image caption

বিবিসি বাংলাকে নকল করে তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইট।

শুরু করছি একটি গুরুতর সমস্যার দিকে আপনাদের নজর আকর্ষণ করে।

আপনাদের জানিয়ে রাখি বিবিসি বাংলার হুবহু নকল একটি ওয়েবসাইট থেকে নানা ধরনের ভুয়া খবর প্রচার করা হচ্ছে। এই ওয়েবসাইটটি মূলত ভুয়া খবর পরিবেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে ইমেইল এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে আপনারা আমাদের এব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তার জন্য আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

আমি আপাতত শুধু এটুকুই বলতে চাই যে আমরা এই ওয়েবসাইটের তৎপরতা সম্পর্কে সজাগ আছি এবং এই সাইটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর প্রতিহত করার ব্যাপারে বিবিসির যে প্রত্যয় তা অব্যাহতই থাকবে। আপনাদের সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম হতে শুরু করেছে। আর তারই রেশ পড়েছে আপনাদের পাঠানো চিঠিপত্রেও। লিখেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল, ঢাকার ধানমন্ডি থেকে:

মেইলের সাবজেক্ট দেখে বুঝতে পারছেন আমি কি লিখতে যাচ্ছি। ক্রিকেট তারকা মাশরাফি রাজনীতিতে আসছেন এমন সংবাদ অনেক আগেই গণমাধ্যমে এসেছে। তবে আমরা বাঙালি হিসেবে যে নোংরা কাজটি করে থাকি তাও করা হয়েছে তাঁর প্রতি। তাঁকে সামাজিক মিডিয়ায় যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে তা দেখে অবাক হয়নি, কারণ এটা দেখে আমরা অভ্যস্ত। বরং অবাক হয়েছি যে এরকম একজন তারকার সিদ্ধান্তকে কিভাবে সমালোচকরা কটাক্ষ করলো। তিনি কি সমালোচকদের চেয়ে কম জানেন নাকি কম বোঝেন? তাছাড়া একজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কি তাঁর ভক্তদের কাছে বিক্রি করে দিতে হবে?

Image caption

মাশরাফির নির্বাচনী আকাঙ্ক্ষা সম্প্রর্কিত বিবিসি রিপোর্ট।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নির্বাচনী আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেছেন অনেকেই। আবার অনেকেই সেটাকে তেমন মেনে নিতে পারেননি। তারা মনে করছেন মাশরাফির উচিত রাজনীতি বাদ দিয়ে খেলার দিকে নজর দেয়া। এদেরই একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাসুম বিল্লাহ:

সাকিব -মাশরাফির ইমেজ নষ্ট হচ্ছে রাজনীতিবিদদের টানাটানির প্রেক্ষিতে। তারা ক্রিকেট খেলছে, ক্রিকেট নিয়েই থাকুক। বাংলাদেশ গত ১৮ বছরে আটটা দূরের কথা চারটা ফাইনাল ম্যাচও খেলতে পারে নি বিশ্বকাপের। সুতরাং খেলোয়াড়দের উচিৎ কী করে দেশের ক্রিকেটকে উন্নত করা যায় তার দিকে মনোযোগ দেয়া। আর আমাদের দেশে কি জনসেবা করার মতো লোক কমে গিয়েছে? ক্রিকেট থেকে অবসর নিলে তারপর সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু যখন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সামনে আর তার আগে নির্বাচন, সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় তাদের উচিৎ অন্তত কী করে সেমিফাইনালে খেলা যায় তা চিন্তা করা। অন্য সব চিন্তা অবান্তর।

লক্ষ্মীপুর থেকে এই পরামর্শ পাঠিয়েছেন চুপি আহমেদ:

মাশরা‌ফি বিন মর্তুজা য‌ে নির্বাচন কর‌বে তার পক্ষে আর বিপক্ষে বিবিসি একটা অনলাইন ভোটের আয়োজন করতে পারে।

মি. আহমেদ। মাশরাফি বিন মর্তুজার নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা দেশ যে বিভক্ত, তা কোন মতামত ছাড়াই জানা সম্ভব। তবে এধরনের অনলাইনে ভোট এখন বিবিসি থেকে করা হয় না। কিছু সম্পাদনা-গত ইস্যুর কারণে। তবে আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

Image caption

হিরো আলম জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তবে শুধু ক্রিকেট তারকাদের প্রসঙ্গেই নয়, আপনারা মতামত পাঠিয়েছেন চলচ্চিত্র তারকা, খেলোয়াড়, তারকা ব্যবসায়ীদের নির্বাচন আগ্রহ নিয়েও। মানুষের সেবা করার জন্য তাদের কি রাজনীতিতে যোগ দেয়া উচিত কিনা, তা নিয়েও চলছে বিতর্ক।

এ সম্পর্কে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে লিখেছেন মো. আবু তাহের মিয়া:

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি আলোচিত বিষয় হল ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও হিরো আলমের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াও তা তোলপাড় শুরু করেছে। তাঁদের রাজনীতিতে আসা অনেকে দেখছেন খারাপ চোখে। অনেকে আবার স্বাগত জানিয়েছেন। সব মিলে অপেক্ষা আরো কিছুদিন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনও বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে।

একই প্রসঙ্গে বড়গাঁও, ঠাকুরগাঁও থেকে লিখেছেন মোঃ ফিরোজুল ইসলাম:

এবার নির্বাচনে দেখি অনেক আসনে শিল্পী,অভিনেতা, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে। এর কারণ কি ক্ষমতার লোভ, নাকি অন্য কিছু? কারণ,তারা যদি প্রকৃতপক্ষে মানুষের সেবা বা দেশের উন্নয়ন করতে চান তাহলে তো তাদের নিজ নিজ স্থানে থেকেই করতে পারতেন। তাদের নাম, খ্যাতি, সম্পদের কোনটিরই অভাব নেই। আর যদি তারা ক্ষমতায় আসেও তাহলে তাদের দ্বারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের জন্য কি এমন উপকার হবে? শিল্পী, অভিনেতা, খেলোয়াড় ও ব্যবসায়ীই বা রাজনীতির কতটুকু বোঝেন?

Image caption

নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম রাজনীতির মাঠ।

আপনাদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ। খেলার মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠে আসার মধ্যে কোথায় সমস্যা তা আমি বুঝতে পারছি না। কোন খেলোয়াড় যদি মনে করেন তিনি রাজনীতির মাঠেও সমান জনপ্রিয় সেটা যাচাই করার একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচনে অংশ নেয়া। দেখুন, পাকিস্তানেও ইমরান খান একই কাজ করেছেন। তবে এখানে বড় পার্থক্য হলো ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তিনি বহুদিন ধরে রাজনীতি করেছেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজস্ব একটা ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন।

প্রীতিভাজনেষু প্রকাশ নিয়ে কিছু চিঠি এসেছে। ফরিদপুরের মধুখালী থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট রেডিও লিসনার্স ক্লাবের পরিচালক কামাল হোসাইন লিখেছেন:

বিবিসি যখন শ্রোতাদের চিঠিপত্রের জবাব অনলাইনে দেওয়া শুরু করল তখন প্রতি বৃহস্পতি /শুক্রবার বিবিসির ওয়েবপেজে চিঠি পত্রের উত্তর প্রকাশিত হত। তারপর রেডিওতে উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হলেও শনিবারে/রবিবারে ওয়েব পেজে যথারীতি প্রকাশিত হত। কিন্তু এ সপ্তাহে দেখছি শনি/রবি অতিক্রম করেও আজ মঙ্গলবার চলে যাচ্ছে, তবুও ওয়েবপেজে এখনো প্রকাশিত হচ্ছে । বিষয়টা বলবেন কি?

আরেকটি চিঠি খুলনার দাকোপে মুকুল সরদারের কাছ থেকে:

প্রীতিভাজনেষুর অনলাইন ভার্সন সাধারণত শনিবার বা কখনো কখনো শুক্রবারও ওয়েবসাইটে দেয়া হয়। কিন্তু এ সপ্তাহে খেয়াল করলাম মঙ্গলবার দিনের শেষ দিকে চিঠি-পত্রের জবাব আপলোড করা হয়েছে। কেন এমনটা হয়েছে ঠিক জানি না? এডিটর’স মেইল-বক্স নামটি কে ঠিক করেছে তাও জানি না, তবে এটুকু বলতে পারি মেইল নির্ভর অনুষ্ঠানের অনলাইন ভার্সনের জন্য “এডিটর’স মেইল-বক্স” নামটি যথার্থ হয়েছে।

একটা কথা আপনাদের খুব গোপনে জানিয়ে রাখি। এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী একমাত্র আমি। আসলে সাবির মুস্তাফা সময়মতই ঐ পেজটি তৈরি করেছিলেন এবং আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা প্রকাশ করার জন্য। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে আমার মনে হয়েছিল যে পেজটি আমি আপলোড করেছি। কিন্তু আসলে তা হয়নি। এবং এর জন্য যে শাস্তি দেবেন, মাথা পেতে নেব। আর হ্যাঁ, এডিটর্স মেইল-বক্স নামটি এডিটর নিজেই দিয়েছেন। আপনাদের যে পছন্দ হয়েছে সেটি তাকে জানিয়ে দেব। ধন্যবাদ।

লিংক: প্রবাহ টিভি পর্ব ১৮৫: নির্বাচন ঘিরে সরগরম হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন

Image caption

বিবিসি প্রবাহ টিভির অনুষ্ঠানে উপস্থাপক শারমীন রমা এবং সাংবাদদাতা কাদির কল্লোল।

কিছুটা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে লিখেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল, ধানমন্ডি, ঢাকা থেকে। তার দ্বিতীয় চিঠির একটি অংশ এখানে তুলে দিচ্ছি:

সকালে উঠেই যখন বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইটে ঢুকলাম তখনই চোখে পড়লো ‘এডিটর’স মেইল-বক্স’ নামে আমাদের প্রীতিভাজনেষু। ‘এডিটর’স মেইল-বক্স’ দেখতে গিয়ে গত সপ্তাহের টিভি অনুষ্ঠান প্রবাহের লিংক পেলাম। দেখেও নিলাম সাথে সাথে। সাদেকা হালিম ও দিলারা চৌধুরীর মতামত সম্বলিত টকশো ভাল লাগলো। প্রত্যেক সপ্তাহে ‘এডিটর’স মেইল-বক্স’ দেয়ার সময় সেই সপ্তাহে টিভিতে যে প্রবাহ ও ক্লিক অনুষ্ঠান হয় তার লিংকগুলো দিয়ে দেয়ার অনুরোধ করছি। যদি একইভাবে লিংকগুলো ফেসবুকে দিয়ে দেয়া যায় তাহলে অনেকে উপকৃত হবে। কারণ ঘটা করে অনেকে ইউটিউবে গিয়ে দেখার হয়তো সময় পাইনা/ অথবা কাজের চাপে ভুলে যাই। দেখুন তো আমার প্রস্তাবটা যুক্তিযুক্ত কি না?

এটা একটা সুন্দর পরামর্শ, মি. শামীম উদ্দিন। আমাদের টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে আমরা অনেক ভাল কাজ করে থাকি। আর বিবিসি ক্লিক বাংলা তো এখনই বেশ জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাই প্রীতিভাজনেষুর পেজে-এ আমরা বিষয়টি আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারি। আমার মনে হয় চলতি সপ্তাহ থেকেই এই লিংকগুলো আমরা পোস্ট করতে পারি। আপনাকে ধন্যবাদ।

এ সপ্তাহের ক্লিক: চলচ্চিত্রে সবুজ পর্দার বিকল্প।।BBC CLICK BANGLA

গত সোমবার আমরা ফাতেমা আকতারের গল্প প্রকাশ করেছিলাম।

বাইশ বছর বয়সী ফাতেমা আকতার ছোটবেলা থেকেই সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক চলাফেরায় অক্ষম। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতার পরও স্বাবলম্বী হয়েছেন ফাতেমা আকতার। তার জীবনসংগ্রামের কাহিনী আমরা তুলে ধরেছিলাম আমাদের একটি ভিডিওতে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ফাতেমা আকতার

ফাতেমা আকতারকে সাহায্য করে চেয়ে আপনারা অনেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আপনাদের এসব চিঠিপত্র নিয়ে আমরা ফাতেমা আকতারের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের জানিয়েছে ফাতেমা আকতারের নিজের কোন ফোন নেই। তবে তারা একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েছে যেখানে তার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। নাম্বারটি হলো: ০১৭৫৩৬১৬৪৪৬

বিবিসি বাংলার নিউজ কভারেজকে ঘিরে লিয়াকত আলীর ফেসবুক মেসেজ:

গত ৩রা নভেম্বর বিবিসি বাংলার সান্ধ্য-কালীন অধিবেশনে একটা জিনিস খেয়াল করলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কওমি মাদ্রাসা-ভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলাম সংবর্ধনা দিয়েছে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে বিধায় তারা সংবর্ধনা দিয়েছে। বিবিসি বাংলা সেই সংবাদ ১৫ থেকে ২০ মিনিট গুরুত্বের সাথে প্রচার করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে এবং এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিমের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম বিবিসি বাংলা মনে হয় হেফাজত ইসলামের উত্থান দেখে কোন কারণে কি উদ্বিগ্ন?

Image caption

হেফাজতের সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

লিংক – আওয়ামী লীগ – হেফাজত মৈত্রী: সেকুলার সমর্থকরা কী ভাবছেন?

বিবিসি কেন উদ্বিগ্ন হতে যাবে তা বুঝতে পারছি না, মি. আলী। তবে বিবিসি এটাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেছে। বাংলাদেশে নাস্তিকতা-বিরোধী আন্দোলন, শাপলা চত্বরে পুলিশি অভিযানে পটভূমিতে ক্ষমতাসীন দলের সাথে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান সখ্যতাকে আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং বলে মনে হচ্ছে না? এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির খবর পরিবেশন না করলে আপনারই কী আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করতেন না?

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসঙ্গে এই চিঠি পাঠিয়েছেন হাসান মীর, রাজশাহীর রাণীবাজার থেকে:

বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে তো মাঝে মধ্যে কথা হয়, আমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। শুনেছি সেখানে অমুসলিম শিক্ষার্থীরাও নাকি মাদ্রাসায় পড়ে থাকে। আপনাদের কলকাতা প্রতিনিধিকে একদিন এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করতে বলুন না। ধন্যবাদ।

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে খবর কিন্তু আমরা মাঝেমধ্যেই দিচ্ছি, মি. মীর। তবে সেটা নিয়মিতভাবে নয়। যেমন গত বছরের মাঝামাঝি নাগাদ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম যেখানে প্রশমা শাসমল নামে এক ছাত্রী পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পুরো রাজ্যে ৮ম স্থান দখল করেছিল। সে ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় পেয়েছিল একশর মধ্যে ৯৭ নম্বর।

তবে এনিয়ে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান করা যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে ভারত আর বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার তফাৎটা ভালভাবে বোঝা যাবে। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Image caption

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা পরীক্ষ নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট।

লিংক: পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা পরীক্ষায় হিন্দু ছাত্রীর অসামান্য সাফল্য

বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতার প্রসঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া থেকে মিস বিলকিস আক্তারের এই চিঠি:

নারীদের চলার পথে এই একুশ শতকেও পদে পদে কাঁটা। কখনো পারিবারিক অনুশাসনের কাঁটা। কখনো সামাজিক রীতি-নীতির কাঁটা। কখনো ধর্মীয় কুসংস্কারের কাঁটা। কখনো নিরাপত্তাহীনতার কাঁটা। কখনো বখাটের লোলুপ দৃষ্টি ও লালসার কাঁটা। কখনো অর্থনৈতিক গত ০৭ নভেম্বর বিবিসি’র প্রত্যুষা ও প্রবাহ অনুষ্ঠানে সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী নারী নাজমুন নাহারের জাতিসংঘ ঘোষিত ১৯৩ টি দেশের মধ্যে ১১০টি দেশ ভ্রমণের সাক্ষাতকারটি আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে ! আরও ভালো লেগেছে সব দেশেই বাংলাদেশকে তিনি জাতীয় পতাকার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আর এ থেকেই বিবিসি বাংলা’র এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকারের অভাবটাও অনুভূত হয়েছে দীর্ঘদিন পর। নাজমুন নাহার গোটা নারী জাতির “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর” বলে মনে করি; সর্বোপরি বিবিসি বাংলা’কে ধন্যবাদ জানাই, এ ধরনের উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণামুলক সাক্ষাৎকার প্রচারের জন্য।

অনুষ্ঠানটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। তবে এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটি রেডিওতে ফিরিয়ে আনার কোন পরিকল্পনা আমাদের আপাতত নেই। আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের প্রবাহ টিভি অনুষ্ঠানে প্রচারিত একটি রিপোর্টে নিয়ে মতামত পাঠিয়েছেন মোঃ সোহাগ বেপারী। কুমিল্লার নাংগলকোট থেকে।

Image caption

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে বিবিসির প্রতিবেদন

গত ১২ই নভেম্বর প্রবাহ টিভি দেখছিলাম। ডায়াবেটিস নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানটি ভাল লাগলো। বিশেষ করে তরুণী শিক্ষার্থী সাবিহা সুলতানা মীমের সাক্ষাৎকার দেখলাম। ভাল লাগলো এই কারণে সাবিহা সুলতানা মীম ডায়াবেটিস রোগী হয়েও তিনি মনোবল হারাননি। ডায়াবেটিস নিয়ে সুন্দর এই প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ।

অনুষ্ঠানটি ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম, মি. বেপারি। আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনাদের যেকোনো মতামতের আমরা মূল্য দিয়ে থাকি। এটা আপনাদের প্রতি আমাদের দায়িত্বের একটা অংশ।

এমদাদুল হক বাদশা, লিখেছেন দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা থেকে:

আমি প্রায় ৫০ বছর যাবত বিবিসি শুনে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছি বিধায় বিবিসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা হচ্ছে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস। বিবিসি আমাদের সমৃদ্ধির জন্য অনেক ভাল কাজ করছে। তাই বিবিসিকে আবারো অনুরোধ করব বাংলাদেশের দুর্নীতি লাঘবে একটি একটি ফোন ইন অনুষ্ঠান করতে।

দুর্নীতির প্রসঙ্গে বশে কয়েকটি ফোন ইন আমরা করেছি। তবে সে সব ফোন-ইনের ফলে দুর্নীতি দূর হয়েছে কি না জানিনা, তবে আশা করছি এ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হয়তো কিছুটা সাহায্য করেছে। আপনি দীর্ঘদিনের শ্রোতা। আপনার প্রতি রইল শুভেচ্ছা।

এর পরের চিটির প্রেরক মোঃ শাহরিয়ার সালামত শুভ, পঞ্চগড় থেকে।

অনেক বছর থেকে নিয়মিত বিবিসি বাংলা শুনি। ভোর ও রাতের অধিবেশন দুটো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেমন মন খারাপ হয়েছিল, তবুও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মেনে নিয়েছি। আরেকটি সেরকম সিদ্ধান্ত আশা করছি। বিবিসির সকালের অধিবেশন প্রত্যুষায় প্রচারিত সংবাদপত্র পর্যালোচনা নিয়েই আমার প্রশ্ন। যেখানে প্রায় সবকটি টিভি চ্যানেলে এটা হয়, সেদিক দিয়ে আমার মনে হয়, বিবিসি বাংলা এটা প্রচার না করে অন্য কোন ফিচার বা অন্য কিছু যোগ করলে খুব একটা খারাপ হবে না। আশা করি ভেবে দেখবেন।

সংবাদপত্র পর্যালোচনা আমাদের প্রভাতী আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষভাবে যেসব শ্রোতারা সকালে টিভি দেখতে পারেন না, এই অংশটি তাদের জন্য। এছাড়া একেক টিভিতে সংবাদপত্র পর্যালোচনা হয় একেকভাবে। আমার আশা করবো সেদিক থেকে আমাদেরটাও ভিন্ন ধরনের হবে, এবং শ্রোতারা এজন্যেই অন্য কোথাও না গিয়ে আমাদের পত্রিকা পর্যালোচনাই শুনবেন। তাই সংবাদপত্র পর্যালোচনাকে বাদ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আপনাকে হতাশ করতে হচ্ছে বলে দু:খিত।

আমাদের শ্রোতা সোহেল রানা ফেসবুকে এই মেসেজ পাঠিয়েছেন:

বিবিসি প্রবাহ টিভি অনুষ্ঠানটি ফেসবুক লাইভে প্রচার করা যায় না? যদি লাইভ সম্ভব না হয় তবে কিছুক্ষণ এর মধ্যে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেইজ এ আপলোড করলে ভাল হয়। এই অনুষ্ঠান যখন আপলোড করা হয় তখন আর সাম্প্রতিক বিষয়গুলা সাম্প্রতিক থাকে না।

মি. রানা, প্রবাহ টিভি অনুষ্ঠানটি ফেসবুকে সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এখন কাজ করেছি। এই মুহূর্তে কিছু কারিগরিগত জটিলতা রয়েছে। সেগুলো আমরা কাটিয়ে উঠতে পারলেই প্রবাহ টিভির সম্প্রচার আপনারা সরাসরি আপনাদের ফোন, ট্যাবলেট বা অন্যকোন ডিভাইসে দেখতে পাবেন। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার ওয়েব সাইটে বানান ভুল নিয়ে অভিযোগ করেছেন খুলনার পশ্চিম টুটপাড়া থেকে মোঃ এনামুল:

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বানান ভুল পরিলক্ষিত হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত ১২ তারিখে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের আয়কর সম্পর্কে যেসব তথ্য আপনার না জানলেই নয়’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বিভিন্ন স্থানে ‘ড়’ এর স্থলে ‘র’ ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- ‘সাত ধরনের আয় করের আওতায় পরে।’ এখানে ‘পরে’ নয় ‘পড়ে’ হবে । এভাবে বিভিন্ন স্থানে বানান ভুল করা হয়েছে। বিবিসি বাংলার মত একটা স্বনামধন্য সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে বানান ভুল বেমানান । আশা করি বিষয়টি আপনাদের দৃষ্টি গোচর হবে।

মি. এনামুল এই সমস্যাটি বেশ গুরুতর এবং আমাদের নজরেই রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি বানান ভুলের মাত্রা কমিয়ে আনতে। তবে সেটাতে যে পুরোপুরি সফল হতে পারিনি, তা দেখাই যাচ্ছে। আমাদের এই ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/



Source link

সংসদ নির্বাচন ২০১৮: বাংলাদেশে নির্বাচনী জোট দলগুলোর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

ছবির কপিরাইট
PMO

Image caption

নির্বাচনের জন্য নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

বাংলাদেশের গত প্রায় দুই দশক ধরে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে বিএনপি।

তাছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও তাদের জোটের পরিধি বাড়ানোর চিন্তা করছে।

উভয় রাজনৈতিক জোটেই এমন অনেক দল রয়েছে, যাদের তেমন কোন প্রভাব ভোটের মাঠে নেই।

তারপরেও জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জোট রাজনীতির সূচনা হয় ১৯৮০’র দশকের গোড়ার দিকে।

এরপর সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় জোট রাজনীতি আরো জোরালো হয়।

তখন তিনটি রাজনৈতিক জোট একসাথে সে আন্দোলন করেছিল।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন

বাংলাদেশে নির্বাচন: ভারত কি তার কৌশল পাল্টেছে?

কীভাবে চেনা যাবে ‘ফেক-নিউজ’, ঠেকানোর উপায় কী

আয়কর সম্পর্কে যেসব তথ্য না জানলেই নয়

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নির্বাচনে সবগুলো দল আলাদা নির্বাচন করলেও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।

জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব ছিল না।

একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও জাতীয় পার্টির সহায়তা ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব ছিল না।

ফলে ২০০১ সালে নির্বাচনী চিত্র পাল্টে যায়। জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করে বিএনপি। ব্যাপক সুফল আসে বিএনপির পক্ষে।

ছবির কপিরাইট
বিবিসি বাংলা

Image caption

সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ করেন, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিএনপি জোট করেছিল।

মি: আহমেদ বলেন, “বড় দলগুলোর মধ্যে ভয় কাজ করেছে। যদি তারা সরকার গঠন করতে না পারে – এ রকম একটা ভয় থেকে নির্বাচনী জোটের সূচনা। “

২০০১ সালের নির্বাচনের পর সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট এবং একপর্যায়ে মহাজোট গঠন করে।

আওয়ামী লীগের সে জোটে এমন রাজনৈতিক দলও এসেছে যাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল আওয়ামী লীগের বিরোধিতার ভিত্তিতে।

যেমন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোটে একমাত্র জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য দলগুলোর তেমন কোন ভোট ব্যাংক নেই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে জাতীয় চেয়েছিলাম, আওয়ামী লীগ অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হলেও ছোট দলগুলোর সাথে কেন জোট গঠন করেছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মি: চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক ছোট রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাব আছে। এক সময়কার আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদ তাদের সাথে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“এর মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা ‘একলা চলো’ নীতিতে বিশ্বাস করিনা,” বলছিলেন মি: চৌধুরী।

ছবির কপিরাইট
বিবিসি বাংলা

Image caption

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

২০০১ সাল থেকেই জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির জোট রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্যদের ভোটের মাঠে তেমন কোন গুরুত্ব নেই বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

এ জোটে অনেক দলের নামও জানেন না বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপি আরেকটি জোট গঠন করেছে।

দলটির সহ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা মনে করেন, অনেক দলের উল্লেখযোগ্য সমর্থন না থাকলেও এর নানা সমীকরণ রয়েছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, “পাবলিক পারসেপশান বলে একটা কথা আছে। আমাদের সাথে কতগুলো রাজনৈতিক দল আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।”

বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোটে এমন অনেক দল আছে, যারা এক ব্যক্তি, এক দল হিসেবে পরিচিত।

ছবির কপিরাইট
রুমিন ফারহানা ফেসবুক পেজ

Image caption

রুমিন ফারহানা

পরিবারের সদস্যদের নিয়েই এসব দল গঠন করা হয়েছে। তাদের কোন অফিস নেই কিংবা কর্মীও নেই।

কিন্তু তারপরেও দেখা যায় বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় বড় দলগুলোর কাছে তাদের কদর বাড়ে এবং তাদের নিয়ে জোটও গঠন করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা মনে করেন, মোটা দাগে জোট গঠনের বিষয়টি প্রতীকী এবং মনস্তাত্ত্বিক।

জিনাত হুদা বলেন, “ভোটের রাজনীতিতে এটার কোন প্রভাব নেই। উভয় পক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে তাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক দল আছে। একটা জোট থাকলে দলের নেতা-কর্মীদের উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থাকে।”

তবে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ভোটের মাঠে রাজনৈতিক জোট শুধুই প্রতীকী ব্যাপার নয়। কখনো-কখনো এর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে।

এমন অবস্থায় তিনি সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদাহরণ টানেন।

মি: আহমেদ বলেন, দু-একটা রাজনৈতিক দল আছে যাদের ভোট ব্যাংক না থাকলেও নেতাদের ব্যক্তি ইমেজ আছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও, সামাজিক কিছু গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বড় রাজনৈতিক দলগুলো শুধু নির্বাচনী জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

জোটের শরীক দলগুলো থেকে সরকারের অংশীদারও করা হচ্ছে।

২০০১ সালে বিএনপি যেমন মন্ত্রীসভায় জামায়াতে ইসলামীকে স্থান দিয়েছিল, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগও সরকারের অংশীদার করেছে জাসদ, ওয়ার্কাস পার্টি এবং সাম্যবাদী দলকে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলছেন, জোট রাজনীতি তাদের সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মি: চৌধুরী বলেন, “জোট থাকলে যেটা হয় যে অনেক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কাছাকাছি রাজনৈতিক মতাদর্শের রাজনৈতিক দলগুলোর ইনপুট থাকে।”

বিএনপির সহ: আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা মনে করেন, জোটবদ্ধ রাজনীতি ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করে দিচ্ছে।

“এমন অনেক ছোট-ছোট রাজনৈতিক দল আছে যারা আদর্শ-ভিত্তিক রাজনীতি করতে চায়, তারা হয়তো পার্লামেন্টে ভয়েস রেইজ করার সুযোগ পেতো না। তারা যখন বড় দলের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাদের ভয়েসটাও মানুষ শুনতে পায়,” বলছিলেন রুমিন ফারহানা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জোটবদ্ধ নির্বাচনের প্রভাব আরো বৃদ্ধি পাবে।

কারণ, এককভাবে নির্বাচন করে কোন দল ক্ষমতায় যেতে পারবে কিনা সে সংশয় রয়ে গেছে অনেক পর্যবেক্ষকে মনে।



Source link

বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলন: কোন আচরণ ও কাজকে যৌন হয়রানি বলা যাবে?



যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ঢাকায় মানব বন্ধন

Image caption

যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ঢাকায় মানব বন্ধন

বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে যৌন হয়রানি সম্পর্কে বিচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করা হলেও এ সম্পর্কে আলাদা করে সুনির্দিষ্ট কোন আইন নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

এবিষয়ে সুস্পষ্ট একটি আইন তৈরি করার জন্যে আদালতের পক্ষ থেকে আদেশ থাকা সত্ত্বেও গত আট বছরে এই আইনটি তৈরি হয়নি।

এর ফলে কী ধরনের আচরণ যৌন হয়রানি বলে বিবেচিত হবে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন আইনি ধারণা পাওয়া যায় না।

বর্তমানে বাংলাদেশে শুরু হওয়া মি-টু আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তারা এসংক্রান্ত একটি আইন তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন।

সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নারী সোশাল মিডিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, ঠিক কোন কোন ঘটনাকে যৌন হয়রানি বলে ধরা হবে সেবিষয়ে আদালতের একটি গাইডলাইন বা দিক নির্দেশনা রয়েছে।

আদালতের ওই আদেশে বলা হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত এবিষয়ে আলাদা করে কোন আইন তৈরি না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই দিক নির্দেশনাই আইন বলে গণ্য হবে।

তবে এই দিক নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ব্যাপারে।

এক দশক আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর দায়ের করা এক রিট পিটিশনের জবাবে এই নির্দেশনাটি দেয় হাই কোর্ট।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী সালমা আলী ২০০৮ সালে এই পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন।

তিনি বলেন, “আদালত তখন দিক নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি প্রত্যেকটি অফিসে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন নারীকে প্রধান করে একটি করে কমিটি গঠন করারও আদেশ দিয়েছিল।”

Image caption

বাংলাদেশে যেসব মেয়েরা তাদের যৌন হয়রানির শিকার হবার অতীত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছেন – তাদের সাথে সংহতি জানিয়েছেন অনেকেই।

যৌন হয়রানির মধ্যে কী কী পড়ে

আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমানে যেসব আইন আছে তাতে এক কথায় যৌন হয়রানির কোন সংজ্ঞা নেই। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে যেসব বিষয় যৌন হয়রানি বলে বিবেচিত হতে পারে সেগুলোর একটি লম্বা তালিকা রয়েছে।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর এক যৌথ বেঞ্চের দেওয়া ওই গাইডলাইনে কোন কোন বিষয় যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত হবে তার বিস্তৃত সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে শুধু কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যে।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের একজন আইনজীবী নীনা গোস্বামী বলছেন, এর আগে বাংলাদেশে যৌন হয়রানির ব্যাপারে আলাদা করে কোন সংজ্ঞা ছিল না।

“এর পরেও আদালতের কাছ থেকে আরো একটি রায় পেয়েছি যেখানে আগের দিক নির্দেশনাটির সাথে আরো কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে। সেখানেও সরকারকে এবিষয়ে খুব দ্রুত একটি আইন তৈরি করতে বলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে সেখানে যৌন হয়রানিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেছিল আদালত । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনও পর্যন্ত সেটা হয়নি।”

আদালতের দিক নির্দেশনা অনুসারে যেসব বিষয় যৌন হয়রানি বলে বিবেচিত হবে সেই তালিকার মধ্যে রয়েছে:

  • অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ। যেমন শারীরিক স্পর্শ, এধরনের প্রচেষ্টা।
  • প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা।
  • যৌন হয়রানি বা নিপীড়নমূলক উক্তি, যৌন সুযোগ লাভের জন্যে অবৈধ আবেদন।
  • পর্নোগ্রাফি দেখানো, ব্ল্যাক মেইল কিম্বা চরিত্রহননের জন্যে স্থির ও ভিডিও-চিত্র ধারণ।
  • যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্যক্ত করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করে ঠাট্টা উপহাস করা।
  • অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোন ব্যক্তির অলক্ষ্যে তার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা।
  • চিঠি, মোবাইল, টেলিফোন, এসএমএস, ছবি, নোটিস, কার্টুন বেঞ্চ, চেয়ার টেবিল নোটিস বোর্ড, অফিস ফ্যাক্টরি, শ্রেণি কক্ষ, বাথরুমের দেওয়ালে যৌন অপমানজনক কিছু লেখা।
  • যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে খেলা ধুলা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।
  • প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হলে হুমকি দেওয়া বা চাপ প্রয়োগ করা।
  • ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনের চেষ্টা করা।

আইনজীবীরা বলছেন, উপরে উল্লেখিত এসব বিষয় কারো কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অগ্রহণযোগ্য হলে সেটা যৌন হয়রানি বলে বিবেচিত হবে। তারা বলছেন, প্রেম, বিবাহ, ভালোবাসা- যে কোন সম্পর্কের মধ্যেও এসব যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটতে পারে।

আরো পড়তে পারেন:

নারী অধিকার কর্মীরাও কি ‘মি-টু’ এড়িয়ে যাচ্ছেন?

বাংলাদেশে #মি-টু আন্দোলন কি শুরু হলো?

‘যারা যৌন হয়রানির কথা প্রকাশ করছেন তারা একা নন’

ছবির কপিরাইট
Facebook

Image caption

মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি নামের এই নারী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

কোথায় বিচার চাওয়া যায়?

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের দিক নির্দেশনা অনুসারে শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলে সেটা এর আওতায় বিচার করা সম্ভব।

নীনা গোস্বামী বলছেন, ওই গাইডলাইনে বলা আছে, সরকারি বেসরকারি প্রতিটি সংস্থায়, প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্যে কমপক্ষে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে। তার মধ্যে তিনজন হবেন ওই প্রতিষ্ঠানের এবং আরো দু’জনকে ওই প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে নেওয়া হবে। এবং এই কমিটিতে নারী সদস্যদের সংখ্যা বেশি রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।”

আইনজীবীরা বলছেন, তাদের জানা মতে এখনও পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠানেই এধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে সালমা আলী বলছেন, এরকম কমিটির মাধ্যমেও বিচার পাওয়ার খুব ভাল অভিজ্ঞতা তাদের নেই। তিনি বলছেন, দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে তাতে ছুটি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এরকম নজিরও আছে।

তিনি বলছেন, কর্মক্ষেত্রে কিম্বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির শিকার হলে অভিযোগকারী ব্যক্তি প্রথমে ওই কমিটির কাছে যেতে পারেন। তবে সেটা নির্ভর করছে অভিযোগের মাত্রার ওপরে।

“শাস্তি হিসেবে তাকে যে জেলে পাঠাতে হবে তা নয়। অপরাধ অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। চাকরি থেকে তাকে সাময়িকভাবে কিম্বা চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হতে পারে। অভিযোগ গুরুতর হলে বিষয়টি থানা পুলিশের কাছে গিয়েও গড়াতে পারে,” বলেন সালমা আলী।

ছবির কপিরাইট
DAILY STAR

Image caption

দ্যা ডেইলি স্টারের ঘোষণা

সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তার একজন সহকর্মী তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর ওই কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে বিষয়টি তদন্ত করে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

কিন্তু অফিস কিম্বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাইরে, পরিবারের ভেতরে, অন্য একটি পরিবারে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে, রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটলে ভিকটিম কার কাছে যাবেন?

আইনজীবীরা বলছেন, সেসব ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। আর সেকারণেই এধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্যে যৌন হয়রানিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মধ্যে সেটাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

নীনা গোস্বামী বলেন, “ওই কমিটি যদি দেখে যে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধর্ষণের পর্যায়ে চলে গেছে, তখন তারা সাথে সাথে সেটাকে পাঠিয়ে দেবে পুলিশের কাছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা মৌখিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সেখান থেকে প্রতিকার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমই থাকে।”

এর কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, বিভিন্ন আইনের দু’একটা ধারায় যেভাবে যৌন হয়রানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা খুবই অস্পষ্ট। তারপরেও যেসব আইনে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে:

  • ফৌজদারি দণ্ডবিধি
  • মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ
  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
  • পর্নোগ্রাফি আইন

…আরো কিছু আইন।

তবে পুলিশের কাছে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। যেমন মোবাইল কোর্ট ডেকে তাৎক্ষণিকভাবেই এর বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ যখন বহু বছর পুরনো

মি-টু আন্দোলনের অংশ হিসেবে নারীরা ফেসবুকে যেসব অভিযোগ তুলে ধরছেন সেগুলো কয়েক বছর আগের ঘটনা। কখনও কখনও সেটা ২০/৩০ বছরেরও বেশি পুরনো। সেসব অভিযোগের বিচারের ভবিষ্যৎ কতোখানি এব্যাপারেও আইনজীবীরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

“সেটা নির্ভর করে ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর। তারা যদি মনে করে ব্যবস্থা নেবেন তাহলে সেটা তারা এখনও নিতে পারেন। কিন্তু এমন কোন সাধারণ আইন নেই যার আশ্রয় নিয়ে কর্মস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির বিচার পাওয়া সম্ভব,” বলেন নীনা গোস্বামী।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

পশ্চিমা বিশ্বের এই মি-টু আন্দোলনের ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশেও।

তারা বলছেন, থানায় গেলে বেশিরভাগ সময় সেখান থেকে যেসব জিনিস চাওয়া হয় সেগুলো না থাকার কারণে ঠিক মতো মামলাও করা যায় না। যৌন হয়রানি সম্পর্কে থানার পুলিশও খুব একটা সচেতন নয়।

সালমা আলী বলছেন, “এতো বছর আগের একটি ঘটনা প্রমাণ করা খুব কঠিন। তবে সেসময় তিনি যদি কোন ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন, কোথাও লিখিতভাবে অভিযোগ করে থাকেন, তখন যদি কোন প্রতিবাদ হয়ে থাকে, হয়তো অভিযুক্ত ব্যক্তির চাকরি চলে গিয়েছিল কিম্বা তিনি নিজে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেগুলোকেও কিন্তু তারা আজকে প্রমাণ হিসেবে হাজির করতে পারেন।”

তবে তারাও এও স্বীকার করেছেন যে এতো আগের এরকম একটি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ, কিম্বা সাক্ষী হাজির করা খুব কঠিন একটি কাজ।

সালমা আলী বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, যারা পুলিশের কাছে গেছেন তারা এক পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সামাজিক চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত তারা একটা আপোষে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, এই বিচারের সময় ভিকটিম যাতে আবারও দ্বিতীয়বারের মতো সমাজের কাছে ভিকটিম হয়ে যান সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, এজন্যে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে খসড়া করে সেটা আইন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় থেকে এধরনের আইন প্রণয়নের ব্যাপারে এখনও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সালমা আলী বলছেন, সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে নারীরা যৌন হয়রানির বিচার চাইতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নারীরা সেটা করতে চায় না। কারণ এই প্রক্রিয়ায় যে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা থাকে না।”



Source link

নির্বাচন আর কান্দালভি বিতর্কে পিছিয়ে গেল বিশ্ব ইজতেমা



বাংলাদেশের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

বাংলাদেশের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ

বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মধ্যে বিভক্তির কারণে এবার বিশ্ব ইজতেমা নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না।

হজের পর বিশ্বের মুসলমানদের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত জানুয়ারির ১১ তারিখ থেকে শুরুর কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যাচ্ছে, এবং নতুন তারিখও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বিভক্তি মেটাতে বাংলাদেশের সরকার দুই পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবং তাবলীগ জামাতের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব ইজতেমা পিছানো হয়েছে।

তাবলীগ জামাতের নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্দালভিকে নিয়ে বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের ভেতরে দু’টি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ঢাকার টঙ্গীতে এবার বিশ্ব ইজতেমা করার বিষয়টি সংকটে পড়ে।

একটি গ্রুপ ১১ই জানুয়ারি থেকে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে এই সময়ে ইজতেমা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

কান্দালভিকে নিয়ে তাবলীগ জামাতে স্পষ্ট বিভক্তি

মাওলানা সাদকে ঘিরে তাবলীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

ছবির কপিরাইট
YouTube

Image caption

তাবলীগ জামাতের বিভক্তির কেন্দ্রে আছেন এর নেতা সা’দ কান্দালভি

মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তাবলীগ জামাতের কোন্দল মেটাতে দুই পক্ষের ছয়জন প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এই কমিটি ভারতে গিয়ে তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করে সমাধান করবে বলে মি: খান আশা প্রকাশ করেছেন।

“সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই তাবলীগ জামাত দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই এই ভাগাভাগির মধ্যে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, তাদের একসাথে করে তাবরীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা পূর্বের ন্যায় করার জন্য। সেজন্য ছয় সদস্যের একটা টিম করা হয়েছে। এরা ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় যাবে, সেখানে আলেম ওলামা এবং তাবলীগের নেতাদের সাথে আলোচনা করবে এবং বিতর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধানে আসবে। এরপর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তারা ইজতেমা করবে” – বিবিসি বাংলাকে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির মতবাদ নিয়ে তাবলীগ জামাতের দু’টি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের প্রভাব গত বছরের ইজতেমাতেও পড়েছিল।

মি. কান্দালভি তাবলীগ জামাতে কিছু সংস্কারের কথা বলছেন যা এই আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলছেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়। এছাড়া মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতরে নামাজ না পড়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়া উচিত – যাতে মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ে।’

কিন্তু তার বিরোধীরা বলছেন, সাদ কান্দালভি যা বলছেন তা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী, এবং আহলে সুন্নাত ওয়া’ল জামাতের বিশ্বাস ও আকিদার বাইরে।

গত বছর মি. কান্দালভি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরোধী পক্ষের প্রতিবাদের মুখে তিনি ঢাকায় তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় কাকরাইল মসজিদ অবস্থান করে সেখান থেকেই দিল্লী ফেরত যান।

ছবির কপিরাইট
Getty Images

Image caption

টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা প্রাঙ্গণ

তার পক্ষের অংশ ১১ই জানুয়ারি থেকে টঙ্গীতে ইজতেমার তারিখ ঠিক করেছিল। আর বিরোধী অংশ ১৮ই জানুয়ারি থেকে সময় নির্ধারণ করেছিল।

মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির বিরোধী অংশের ওমর ফারুক বলছেন, ১৮ই জানুয়ারি থেকে ইজতেমা করার প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন।

মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির পক্ষের অংশের নেতারা বলেছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে তারা ইজতেমার তারিখ ঠিক করার চেষ্টা করবেন।

তবে ৩০ শে ডিসেম্বর যে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে, সেটিও ইজতেমা পিছানোর অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেছেন, “ইজতেমা স্থগিত করা হয়নি। সময়টা পিছানো হয়েছে। নির্বাচনে ছয় লাখ নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করবে।ফলে এই সময়ে নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা বাহিনীর অন্য কোন কাজের জন্য আমাদের ক্লিয়ারেন্স দিতে পারবে না। ফলে কমিশন ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং সকলের ঐকমত্যে ভিত্তিতে ইজতেমা করা হবে।”

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এখন দু’পক্ষ সমঝোতার ভিত্তিতে ইজতেমার সময় নির্ধারণ করবে। তবে তাবরীগ জামাতের দুই পক্ষই জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে থেকে ইজতেমা শুরু করতে চায়।



Source link